
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মিয়ানমারকে সরাসরি ইঙ্গিত করে বলেন, বিশ্বের বহু রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করেছি। মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সাথে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে দেখা হয়, কিন্ত রোহিঙ্গা বিষয়ে কথা বললেই তারা চুপ করে থাকে, কোন কথা বলে না। তখন পাথরের কথা মনে হয়, জড় বস্তুর সাথে কখনও সমঝোতা হয়? আপনি কখনও পাথরের সাথে নেগসিয়েশন (সম্পর্ক স্থাপন) করতে পারবেন? মিয়ানমারের অবস্থা হচ্ছে জড় বস্ত পাথরের ন্যায়।
এসময় তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, হয়তো তারা গৌতম বৌদ্ধের ধ্যান থেকেই এমন নিরবতা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কথা বললেই চুপচাপ! কোন কথা বলে না। এটাই হয়তো তাদের কূটনীতি। কোন নড়চড়া নেই। তবে তাদের ক্ষমতার আধার আমাদের সকলের কমবেশি জানা, সেখান থেকে যদি একটু নড়াচড়ার ব্যবস্থা করানো যায় তবেই হয়তো রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হবে। তবে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা সকলেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের পক্ষে আছে। আশা রাখলে তো দোষ নেই। জোর করে তো এতো বড় জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায় না। তবে আমরা বসে নেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে, বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশবাসীর বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা বসে নেই। শেখ হাসিনার সরকার অতীতের সকল সমস্যা যেভাবে নিরসন করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যারও সমাধানও করবে।
সম্প্রতি দেশের একটি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় অনুষ্ঠান সঞ্চালক ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরে খোলামেলা ভাবে বলেন, বাংলাদেশের চতুর্দিকে ভারত বেষ্টিত, শতকারা ৯০ ভাগ। অপরদিকে অল্প একটু সীমান্তে মিয়ানমারের অবস্থান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, অর্থাৎ সবচেয়ে কঠিন সময় ভারত আমাদের পাশে ছিল। এই বাস্তবতা ভোলার কোন সুযোগ নেই। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই কৃতজ্ঞতা কখনও ভুলতে পারবো না। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে পাক-বাংলাদেশ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মহুতি দেয়া মিত্রবাহিনীর হাজারো সদস্যকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ এই বাংলার মুক্ত বাতাসে আমি নিঃশ্বাস লই।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাথে স্থল, সমুদ্রসহ নানা ধরনের চুক্তি কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি তিস্তার চুক্তিও শেখ হাসিনার সরকারই করতে সক্ষম হবে। তবে সময় লাগছে। আপনাকে বুঝতে হবে ভারত এতো বড় একটি রাষ্ট্র, অন্য একটি রাষ্ট্রের সাথে কোন একটি বিষয় চুক্তি করবে, তখন সব পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমেই করতে হয়। সে জন্য হয়তো দেরি হচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী ভারত সরকার তার কথা রাখবে। কারণ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক অতীতের যে কোন সরকারে চেয়ে ভালো বলেও জানান তিনি।

পাঠকের মতামত